সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো: ডা. শফিকুর রহমান

জানানো হয়েছে যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে — এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এই আহ্বান জানান।

সমাবেশের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর করা, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশইন’ বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসন। এসব দাবির পক্ষে সমাবেশের বক্তারা শপরক্কারী বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্নভাবে আমাদের গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি পরিস্কার বলেন, ‘‘আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ — লড়াই চালিয়ে যাবো এবং ইনশাআল্লাহ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো। এ থেকে এক চুলও সরবো না।’’ তিনি আরও বলেন, রংপুরের আবু সাঈদের রক্তে ভেজা স্মৃতি তাদের এই প্রতিজ্ঞা আরও দৃঢ় করেছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সংস্কারের স্বপ্ন দেখেই আমাদের সন্তানরা লড়াই করেছে — সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়াসেই গণভোট হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছিলেন: তিনি বলেছিলেন ভোট দেবেন দু’টি—একটি তার দলকে, আর অন্যটি হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’। আজ প্রথমটি রক্ষা করা হলেও দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি পালন হয়নি।

তিস্তা নিয়ে সরকারকে তারা তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। ডা. শফিকুর বলেন, সরকার নির্বাচনের আগে ‘‘জাগো—তিস্তা বাঁচাও’’ আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল, অথচ সাম্প্রতিক বাজেটে তিস্তার জন্য একটিও টাকার বরাদ্দ নেই। ‘‘আমরা কথার ফুলঝুরি চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ চাই,’’ তিনি যোগ করেন। যদি বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়, তিনি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে জনগণের সহায়তা ও ভোটে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’’

সীমান্তে পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, সীমান্তজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে সীমান্তে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চলছে। সরকারের পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘জনগণ প্রতিবাদ করছে, শুধু প্রতিবাদই নয়—বিজিবির সৈনিকদের পাশে সাধারণ মানুষও লড়াই করছে। আমরা সেই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই।’’

ডা. শফিকুর মতে, সরকারের উচিত দেশের স্বার্থ বুঝে কাজ করা, কোনো ভয়ে বা অন্য দেশের জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঠিক নয়। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত এবং তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে কোনো অস্বচ্ছতা মেনে নেয়া হবে না। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি তিস্তা বাস্তবায়ন, সীমান্তে নির্যাতন বন্ধ ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া দাবি জোরালোভাবে তুলে দেন।