ঢাকা: হামে টিকা সংক্রান্ত অবহেলা ও তার ফলশ্রুতিতে শিশুর মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা মামলায় আদালত interim প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনকে আসামি করার আবেদন খারিজ করেছেন।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলাটি আমলে না নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত তার আদেশে বলেছে, মামলাটি তদন্তযোগ্য করার জন্য ‘পর্যাপ্ত উপাদান’ নেই—এমন কারণ দেখিয়ে আবেদন খারিজ করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তসলিম পপি।
এই মামলা পেশ করেছিলেন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নয় মাস বয়সী শিশু সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম। তিনি প্রথমে ৫ জুলাই আদালতে আবেদন করেন; আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে শুনানির জন্য ১২ জুলাই দিন ধার্য করেন।
বাদীর আর্জিতে প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল। মামলায় অভিযোগ করা হয় যে হামের টিকা সংক্রান্ত অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে—এগুলি মামলার তথ্য অনুযায়ী অভিযোগ হিসেবে আনা হয়েছে।
বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলায় বলেছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক ও মার্চের শুরুতে শরীয়তপুর সদরে তাদের নয় মাস বয়সি কন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় চিকিৎসায় জ্বর না কমায় শিশুটিকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয় যে ঢাকা মেডিকেলে হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
অবস্থার অবনতি হলে ২২ মার্চ শিশুটিকে মহাখালীর সংক্রামক রোগ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের চিকিৎসায় অসহযোগিতা ও অবহেলার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর বিবরণ অনুযায়ী, ২৬ মার্চ চিকিৎসকরা শিশুর মুখে অক্সিজেন দিতে গিয়ে সিলিন্ডারটি শিশুর মায়ের হাতে তুলে দেন। মা তা লাগাতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালের একজন সুইপার সিলিন্ডারটি শিশুর মুখে বসিয়ে দেন—আর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে শিশুটি মারা যায়।
আদালত ওই ঘটনায় মামলা আমলে নেয়ার যোগ্য পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় আবেদন খারিজ করেছেন; একই সঙ্গে মামলার বিবরণ ও বাদীর বক্তব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য নথিভুক্ত রাখা হয়েছে।





