বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় হবে: ভারত

ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তর কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি কেবল আইনি পথে সংহতভাবে নিরূপিত হবে। নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারে ভারতের নীতিতে কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত সব মামলা ও পদক্ষেপ প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই নেবে ভারত।

পটভূমি: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। পরে ঢাকায় জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় এবং বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠায়।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা পোষণ করছেন। এই ঘোষণার পরই কূটনৈতিক মহলে চাপ পড়ে এবং আলোচনার প্রশ্ন উঠতে থাকে যে ভারত ও বাংলাদেশ এই বিষয়ে কোনো সমন্বয় করছে কি না।

এক সাংবাদিকের ‘ভারত কি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা করছে’—এর মতো প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল কেবল বলেছিলেন, ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত এবং প্রত্যর্পণ এমনকি সম্ভাব্য হস্তান্তরও অবশ্যই প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলবে। তিনি এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হওয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।