বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম ব্যতীত সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র–শিক্ষক ও অভিভাবকরা দিনভর আন্দোলন চালানোর পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়ে দেন, চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের অন্য সকল স্থানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আঞ্চলিকভাবে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে কিছু এলাকায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি তোলা হলেও শিক্ষা প্রশাসন পরীক্ষার নিয়োজিত সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।

মাহ্দী আমিন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সকল বোর্ডের কেন্দ্রগুলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য উপযোগী।” তিনি বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ আছে; সেই সব দিক বিবেচনা করে সরকারি কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য অংশীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা হয়েছে, তবে সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসন মূল্যায়ন করেছে যে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাবিভাগ ব্যাতীত কোথাও পরীক্ষার পরিবেশ অনুকূল রয়েছে এবং সেগুলোতে পরীক্ষাগুলো সময়মতো পরিচালনা করা হবে।

একই সঙ্গে মাহ্দী আমিন জোর দিয়ে বলেছেন যে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক পরিস্থিতি সরকার গভীরভাবে ভাবছে। সরকারের কাছে পরীক্ষাসমূহ নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা একটি দায়বদ্ধতা। তাই শিক্ষার্থীর স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মেধা যাচাই নিশ্চিত করতেই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের আলোচনায় সবাই জানিয়েছে যে চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত বাকি স্থানে পরীক্ষা আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে যেখানে কোথাও শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ ঘটতে পারে, সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষার সময় বাড়ানো বা স্থানীয় কোনো স্থানে পরীক্ষাস্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে এবং যেসব এলাকায় আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তাদের জন্য যাতে যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই কারণেই ওই বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা পরে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা দেবেন; সরকার জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার দিনে যেখানে বাধা দেখা দিলো, সেখানকার শিক্ষার্থীরা একই দিনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রযুক্ত কিছু ত্রুটি শনাক্তের তথ্য আসে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে দুটি ভুল থাকার সংবাদে শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষার্থীবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে উক্ত প্রশ্নগুলোর জন্য ফুল মার্কস প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাহ্দী আমিন শেষ করে লিখেছেন, সামনের দিনগুলোতেও যদি বিরূপ আবহাওয়া দেখা দেয়, তখন সারাদেশে প্রস্তুততা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দিয়ে পরীক্ষার স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।