রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অন্তত সাত কর্মকর্তা নিহত এবং দু’শতাধিক বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানি পক্ষের শোরগোল ও সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী ঘটনার ধরণ ও প্রভাব ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানশাহরের বাম্বুর গ্যারিসনে অবস্থিত একটি ব্যারাকে ১৩টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই আঘাতে ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাত সদস্য প্রাণ হারান এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন—আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত সামরিক বিবৃতিতে এ কথাই বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর জানিয়েছেন, সর্বশেষ সংবাদের ভিত্তিতে মার্কিন হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের কম এবং হামলায় অন্তত দু’জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইরানের সেনাবাহিনী এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাবের শপথ জানিয়েছে। তাসনিমের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘উপযুক্ত সময়ে এ হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে—’’ এমনই দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে আগে থেকে উত্তেজনা বেড়ে চলছিল। হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিরোধ গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন বাহিনী ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে ফের নৌ অবরোধ আরোপের খবর রয়েছে।
তার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় একাধিক আঘাতের দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার আইআরআইবির উদ্ধৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোনগুলো জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা এলাকা এবং বড় সরঞ্জাম হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ করলে। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম ফ্লিটের বেশ কয়েকটি কাঠামো—কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, নৌ-সহায়তা কেন্দ্র, গুদাম ও জ্বালানি ট্যাঙ্ক—নস্ট হওয়া দাবি করেছে আইআরজিসি।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ড্রোন প্রতিহত করার সময় বিকট শব্দের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, মিনা আবদুল্লাহর মার্কিন লজিস্টিকস ও সহায়তা কেন্দ্রকেও ‘নাসর-২’ অভিযানের চতুর্থ ধাপে আঘাত করা হয়েছে; এতে সেখানে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আপাতত সংঘর্ষ ও পাল্টা-হামলার দাবি উভয়পক্ষই করছে এবং পরিস্থিতি অনিশ্চিততার মধ্যে রয়েছে। এর সূত্র হিসেবে আল জাজিরা, তাসনিম ও আইআরআইবি’র প্রতিবেদনগুলোকে ভিত্তি করা হয়েছে।





