পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বয়স নয়—কতটা পথ পেরিয়েছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর মধ্যে এখনও যথেষ্ট শক্তি ও উদ্যম আছে এবং তিনি দলের পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবেন।
৫১-এর বেশি রাজনীতিক পাল্টা আক্রমণে তীব্র সমালোচনার মুখে ৭১ বছর বয়সী মমতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার দরকার নেই। মন, শরীর আর মানসিক শক্তিই মানুষের বয়স নির্ধারণ করে। আমি কি কখনও প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না।’’
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলত্যাগ ও বিদ্রোহের মধ্যেও তিনি টিকে বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভা ফল প্রকাশের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যতদিন না তোমাদের পতন নিজের চোখে দেখি।’’
নিজেকে নতুন করে শুরু করার যোগ্যতা সম্পর্কে মমতা বলেন, তিনি আগের মতোই দলের গোড়া থেকে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারবেন—যেমন ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালে করেছেন। ‘‘২০২৬ সালেও আবার নতুন করে শুরু করার শক্তি আমার আছে। আমি এক নই, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং এখন যারা আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব,’’ তিনি যোগ করেন।
তিনি রাজনৈতিক অবসর নেওয়ার কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। সংক্ষিপ্ত ও ছোট বাক্যে তিনি এককথায় বললেন: ‘‘করব, লড়ব, বাঁচব।’’
তবে বাস্তবে তৃণমূলে বিপ্লবের সুর আছে। দলের ভিতরে বিরাট বিদ্রোহ শুরু হওয়ায় মমতার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হয়েছে—রাজ্য বিধানসভা ও সংসদ, উভয় ক্ষেত্রেই অনেক নির্বাচিত বিধায়ক ও সাংসদ দলনেতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। বেশিরভাগ বিধায়ক বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে পদক্ষেপ নিয়েছেন। অন্যদিকে, লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ একটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএকে সমর্থন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মমতার এই আবেগঘন বার্তা এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের সমাবেশের কয়েক দিন আগে—যা দলের ক্যালেন্ডারে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি দিন। এ বছর একই দিনে দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করার পরিকল্পনা করেছে।
এর মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট বুধবার মমতা নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে অন্য একটি স্থানে ২১ জুলাইয়ের বার্ষিক শহীদ দিবসের সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। শহীদ দিবসের স্মরণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের ইতিহাস ১৯৯৩ সালে ঘটে—সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে পরবর্তীতে এটি তৃণমূলের বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে; সে সময় মমতা যুব কংগ্রেসের নেত্রী ছিলেন।
মমতার ভাষ্য ও হাইকোর্টের অনুমতি—দুই দিকই আগামী কয়েক দিনে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলছেন, বয়স বা অন্তর্ধানকে কাণ্ডারী হিসেবে মানবেন না; তার সংগ্রাম ও রাজনীতিতে থেকে যাওয়ার ইচ্ছে অটল।





