রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান: এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানো হোক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি একই সঙ্গে উত্তরণের প্রস্তুতি পর্ব তিন বছর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে ইকোসকের সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার কাছে বাণিজ্যমন্ত্রী সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, জলবায়ুর বহুমাত্রিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহির্ভূত বাধার কারণে নির্ধারিত প্রস্তুতি периডের সব সুবিধা বাংলাদেশ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। তাই অতিরিক্ত তিন বছরের সময় দেশের উত্তরণকে আরও মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীলভাবে বাস্তবায়নের জন্য জরুরি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি উত্তরণ বিলম্বিত করার উদ্দেশ্য নয়, বরং উত্তরণকে শক্তভিত্তি করে স্থায়ী ও সফল করে তুলতেই এটি জরুরি। অতিরিক্ত সময়কে ব্যবহার করে কাঠামোগত সংস্কার আরও সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতকে দৃঢ় করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে—যা মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করবে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোকপাত করে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বৈঠককালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও টেকসই ও সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।