বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে, আইন ও সরকার রয়েছে—শেখ হাসিনার বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত হবে তা সরকারই নেবে। এই বিষয়টি সিদ্ধান্ত করার ভার তারা জনগণের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদিও প্রচারণা ও হুমকি-ধমকির বাইচিত্র রয়েছে, তবু তারা জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে। তিনি অনুভব করছেন যে জনগণ এখনও সেই ‘লাল জুলাই’র চেতনা ধারণ করে রেখেছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশের জনগণ কখনওই বরদাশত করবে না। র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আধিপত্যবাদী শক্তিদের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই জনগণই ফ্যাসিবাদের নামক এক নেতাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশের রাজনীতির জটিলতা, নির্যাতন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির ওপর যারা নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন, তাঁদের ‘‘রিমোট কন্ট্রোল’’ দিল্লি থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেনেভা কনভেনশন ও বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সব প্রযুক্তিগত সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে দিল্লি তাকে আরাম-আয়েশে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক চান, কিন্তু যখন কোনো দেশ বারবার বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় তখন বাংলাদেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না।
সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার নয়, সংশোধন চায়। বিএনপি যে ৩১ দফা নিয়ে বারবার কথা বলেছে, সেখানে ৩১ দফার প্রথম দফায় লেখা ছিল রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে—এ কথা বিএনপি স্বীকার করেছিল। কিন্তু এখন তারা সংস্কারের কথা না বলে সংশোধনের কথা বলছে, এবং পূর্বে জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে উচিত সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, শপথ গ্রহণ করা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে তা কার্যকর করে সংকট মেটানো। যদি তারা তা না করে, তাহলে রাজপথে যেতে ব্যতীত আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন সরকার আসার কয়েক মাসের মধ্যে দেশে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে—অসংহত আইনশৃঙ্খলা, হত্যা, নির্যাতন, শিশু ধর্ষণসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ত্রাণ সামগ্রী যথাযথভাবে পৌঁছে যাচ্ছে না এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায় না।





