রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হেফাজতের মধ্যস্থতায় কওমি ধারার সাত দলের নীতিগত ঐক্য

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দল ভবিষ্যতে যৌথভাবে পথচলা চালানোর নীতিগত সম্মতিতে পৌঁছেছে। অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হেফাজতের মধ্যস্থতায় এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে এক শক্তিশালী ঐক্য গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম (বাবুনগর) মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে সাতটি কওমি ধারার দল অংশ নেয় এবং প্রত্যেক দল তিনজন করে প্রতিনিধি পাঠায়। উপস্থিতি ছিল হেফাজতের প্রায় ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতারও।

সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভা শেষে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানান, ‘সাতটি দল নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে একমত হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে ঐক্যের কাঠামো নির্ধারিত করা হবে।’

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানায়, হেফাজত আনুষ্ঠানিকভাবে অরাজনৈতিক হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে অনেক বিভাজন তৈরি হয়েছিল।

উদাহরণস্বরূপ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন-সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার কথাবার্তা ছিলেও দলটি শেষ পর্যন্ত আটটি আসনে এককভাবে নির্বাচন করে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চারটি আসনে সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে চলে যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন ভাগাভাগির বিরোধে জামায়াত জোট ত্যাগ করে এককভাবে লড়াই করে এবং ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে অংশ নিয়ে।

নির্বাচনের পর কিছু দল জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ায় হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একাংশের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক চট্টগ্রামে গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, তাঁদের জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য আদর্শিক নয়, তা ছিল রাজনৈতিক এক সমঝোতা।

হেফাজতের আমির চান, কওমি ধারার দলগুলো পারস্পরিক কাদা ছোড়া বন্ধ করে নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এজন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজেদের ফোরামে আলোচনা করে প্রস্তাব জমা দেবে এবং সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমি ধারার রাজনৈতিক অনুষঙ্গগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা কমে, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সংগঠিত চ্যানেল পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশ্যে একক অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব হবে—এটাই হেফাজত ও অংশগ্রহণকারী নেতাদের লক্ষ্য।