রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তাপপ্রবাহে বেলজিয়ামে ১৫ দিনে প্রায় ২ হাজারের মৃত্যু

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র তাপপ্রবাহে বেলজিয়ামে মাত্র ১৫ দিনে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা সিয়েনসানো এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে মৃত্যুগুলো ঘটেছে ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ে। খবরটি রিপোর্ট করেছে আনাদোলু সংবাদসংস্থা।

সিয়েনসানো বলেছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়ালোনিয়ায়, তার পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী ব্রাসেলস এবং তৃতীয় স্থানে উত্তরাঞ্চলীয় ফ্ল্যান্ডার্স। সংস্থাটি ২০০০ সাল থেকে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত অতিরিক্ত মৃতের রেকর্ড রাখছে এবং এবারের সংখ্যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।

গত দুপুরকালীন তাপের তীব্রতার ফলে এ বছর হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বেড়েছে, যা প্রবীণদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রাণঘাতী প্রমাণিত হচ্ছে। আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২০ সালে, যখন ১ হাজার ৫৫৭ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছিল।

মহাদেশব্যাপী প্রভাবও বিস্ময়কর — জুনের শেষদিকের রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটামুটি ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে, বলে জানিয়েছে ইউরোমমো নেটওয়ার্ক, যেটি ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত। তাদের উপাত্ত অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মৃত্যুর বেশিরভাগ—প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি—৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব লোকদের মধ্যে ঘটেছে।

গরমের তীব্রতার ফলে হিটস্ট্রোক ছাড়াও হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা বাড়ে, যা প্রধানত বয়স্কদের মধ্যে মারাত্মক হতে পারে। তাই এই ধরনের তাপপ্রবাহের সময় দুর্বল ও বয়স্করা বাড়ির ভেতরে ঠান্ডা রাখা, পর্যাপ্ত জলপান ও প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়ার অবস্থা কী হবে এবং স্থানীয় প্রশাসন কী সতর্কতা ব্যবস্থা নেবে—এগুলো নজর রাখা জরুরি, কারণ দীর্ঘস্থায়ী তাপ ও তাপ তরঙ্গের পুনরাবৃত্তি জনস্বাস্থ্যকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।