ঢাকার মতিঝিলে চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের এক মামলায় শুটার তানিম রেজা ওরফে ‘বাপ্পি’সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে, জানায় পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয়: তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মানিক কাজী (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল প্রায় ৭টার দিকে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে বাপ্পি, জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে গ্রেপ্তার করে। অতঃপর তাদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে একই দিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে রিজনকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
ওসমান গনি জানান, অভিযানে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি রিভলবারের গুলি, দুইটি পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি চায়নিজ কুড়াল—মোট তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি। তাদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানা মিলিয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, বাপ্পি অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন সম্পর্কিত কার্যকলাপে পরিচিত। তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ঘটনায় তার সম্পৃক্ত থাকার খবর রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ঘটানো এক ঘটনায়—১৫ মে দক্ষিণ কমলাপুরের কোরবানির হাটের এক ইজারাদারকে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়; এরপর ১৯ মে ওই ব্যবসায়ীর অফিসে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। মোটিভ সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্তে বাপ্পি ও তার সহযোগীদের নাম উঠে আসে।
ডিএমপির কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী বাপ্পির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশ বলেছে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।





