রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাঠে না থাকলেও বিশ্বকাপ থেকে বড় অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ মানেই গোল, ট্রফি আর কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ। কিন্তু একই সঙ্গে এটি বিশাল অর্থের উৎসও—যা কেবল খেলায় অংশ নেওয়া দেশগুলোই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল-উন্নয়নশীল দেশকেও উপকৃত করে। সেই তালিকায় আছে বাংলাদেশও। মাঠে প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও বিশ্বকাপ থেকে আসা অর্থ দেশি ফুটবল কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

ফিফা এবার বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করেছে রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল প্রস্তুতি ক্যাম্প ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য পেয়েছে ২৫ লাখ (২.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার; দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলে ১২ মিলিয়ন, শেষ ষোলোতে ১৬ মিলিয়ন, কোয়ার্টার ফাইনালে ২০ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ স্থান অধিকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান ২৯ মিলিয়ন, রানার্স-আপ ৩৩ মিলিয়ন এবং চ্যাম্পিয়ন দল পাবে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আরও একটি নতুন সংযোজন—চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং।

তবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় তাৎপর্য রাখে পুরস্কার নয়, বরং ফিফার আয়ের এক অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে কাজে লাগানো। ফিফা তাদের ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে এই অর্থ বরাদ্দ করে থাকে এবং সেই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রতিটি চক্রে নির্দিষ্ট অনুদান পায়।

ফিফার আগের অর্থায়নে ঢাকায় নির্মিত হয়েছে দুটি আধুনিক কৃত্রিম টার্ফ—একটি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে এবং অন্যটি বাফুফে ভবনের পাশে। এই কৃত্রিম পিচগুলো দক্ষ অনুশীলন, ম্যাচ আয়োজন ও যুবপ্রতিভা গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থায়নের বড় অংশ জাতীয় টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণে ব্যয় করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রশিক্ষণ, কোচিং ও প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের ফাইনালে যখন দুটি দল ট্রফি ও বিশাল পুরস্কারের জন্য লড়াই করবে, বাংলাদেশ থাকবে আরেক অর্জনের অপেক্ষায়—মাঠে না থাকলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ থেকে আসা অর্থ দেশের ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিভা গোহাটায় কাজে লাগছে।