খুলনার সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেনকে হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ও তার পিতা আকাশকে রোববার বিকালে মহানগর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব-৬ের যৌথ টিম শনিবার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে আবাসিক মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় এলাকার বাসিন্দা আকাশ (৪০) কে গ্রেপ্তার করে। আকাশ মীর সোহরাব হোসেনের ছেলে এবং নিহত আরফানার পিতা বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আরফানা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিল। নাবালিক্য হওয়ার কারণে পরে তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে আরফানা আবার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে মা-বাবার সঙ্গে তার ধারাবাহিক বিবাদ লেগেই থাকত। ৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘরের মধ্যে বচসার এক পর্যায়ে মা আরিফানাকে মারধর করেন। পরে পিতা একটি কাঠের ফালি দিয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই আরফানার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, মা-বাবা উভয়েই মাদকাসক্ত বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
ঘটনার পর প্রমাণ লুকানোর উদ্দেশ্যে মরদেহটি কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে আকাশ মোটরসাইকেলে করে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখেন। পরে পথচারীরা সড়কের পাশে পড়ে থাকা বস্তার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মাহফুজার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। তদন্তে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে মা আরিফানা হত্যায় তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন; এরপর তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত আরফানা খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তিনি তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও ঘটনার বিস্তারিত পরিচয় উদঘাটনে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।





