সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান: এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় তিন বছর বাড়ানো হোক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি পর্ব তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

শনিবার (১৮ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে ইকোসকের (ECOSOC) সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার কাছে বাংলাদেশের এই যৌক্তিক অনুরোধ তুলে ধরেন।

মুক্তাদির বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব এবং অন্যান্য বাহ্যিক প্রতিকূলতার কারণে বাংলাদেশ নির্ধারিত প্রস্তুতি পর্বের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলে দেশটি উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে — তিনি এভাবেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যে অনুরোধ করা হচ্ছে তা উত্তরণ বিলম্বিত করার জন্য নয়, বরং উত্তরণকে সফল ও দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যেই। তিনি বলেন, তিন বছরের অতিরিক্ত সময় কাঠামোগত সংস্কার জোরদার, সুশাসন শক্তিশালী করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতকে আরো মজবুত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও একটি কার্যকর ও টেকসই উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন করাও সম্ভব হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। পাশাপাশি লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি বৈশ্বিক পরিবেশে এলডিসি থেকে উত্তরণে রয়েছে চ্যালেঞ্জগুলোতে আলোকপাত করেন এবং বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীর এই অনুরোধ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা বাংলাদেশের জন্য সময় দিতে এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে — যাতে দেশটি এলডিসি থেকে উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও স্থিতিশীল রূপে অর্জন করতে পারে।