মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মোজাফফর হোসেনকে সেনা আইনে বিচার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে সেনা আইনে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। একই কালে তিনি বলেন, একই অপরাধে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একসঙ্গে দুই ভিন্ন আইনে পৃথকভাবে বিচার করার সুযোগ নেই—তাই তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানার শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে দরবার শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মোজাফফর হোসেন পার্শ্ববর্তী কোনো একটি দেশে ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরে সেনা আইনের আওতায় বিচারের জন্য তিনি সেনাবাহিনীর হেফাজতে হস্তান্তরিত হয়েছেন।

তাঁর বিচার জেনারেল কোর্ট-মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, একই মামলার আগে যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের প্রেক্ষিতে মোজাফফরের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জেনারেল কোর্ট-মার্শাল বিবেচনা করবে।

মোজাফ্ফরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত বা ফৌজদারি মামলা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিলিটারি অ্যাক্ট সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেহেতু তিনি একই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন, তাই সেনাবাহিনী তাদের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পরবর্তীতে সিভিল কোর্টে কোনো আইনি বিষয় প্রযোজ্য হলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আধুনিক ও কার্যকরী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে যাতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মাদকদ্রব্য চোরাচালান প্রতিরোধে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে; এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।