সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাইয়ের চেতনাকে বিক্রি করে দীর্ঘকাল রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ব্যবসায় ব্যবহার করে বেশি দিন রাজনীতি করা সম্ভব নয়। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদের আয়োজিত ‘‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বললেন, দেশের প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক ভালো চর্চা বাদ দিলে যা কিছু করা হলে তা সফল হবে না—রাষ্ট্রকাঠামো বদলাতে চাইলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। তিনি মন্তব্য করেন যে সাংবিধানিক সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিরোধীরা ওয়াকআউট করেছে; আমরা বলেছিলাম যে যারা যুক্তিসম্মত দাবি রাখে তাদের সঙ্গে সমঝোতার পথে রাজপথে দেশের কল্যাণ যেটা করে আমরা গ্রহণ করব, কিন্তু তারা উপস্থিত হয়নি।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘‘জুলাই কারও একার নয়—জুলাইয়ের চেতনা দিয়ে ব্যবসা করবেন না। যারা ওই চেতনাকে দুর্বৃত্তভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সংগঠন করেছেন, তাদের প্রতি আমার নসিহত হলো: শুধু জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না।’’

মন্ত্রী যারা ‘‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি’’ বলে পুরনো কৌশলে আওয়ামী লীগের পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করবেন, তা সঠিক হয়নি উল্লেখ করে বলেন, যাঁরা এমপি-মন্ত্রী বা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করেছেন, তাদের এখনো সময় আছে। নতুন বন্দোবস্তের যে অঙ্গীকার তারা করেছেন, সেটাই মানুষের সামনে সজীবভাবে উপস্থাপন করতে হবে—পুরনো কাঁচার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া চলবে না।

তিনি সমালোচনা করেন যে কিছু নেতা জুলাইয়ের চেতনাকে ব্যবহার করে দল গঠন করে ৪৭ এবং একাত্তরের স্মৃতিকে নিজের স্বার্থে প্রয়োগ করেন। ‘‘কেউ যদি ৪৭-এর চেতনার কথা বলে, কিন্তু ইতিহাসে দেখা যায় তারা ৪৭-এ পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না; একাত্তরকে অস্বীকার করে সময় এলেই চব্বিশকে ব্যবহার করা ঠিক নয়,’’ তিনি বলেন। তিনি যোগ করেন, সুদীর্ঘ কালের রাজনৈতিক স্বার্থপরতায় জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না এবং নেতাদের উচিত জনগণের অনুকূলে থাকতে বলা।

সালাহউদ্দিন আরো স্মরণ করেন, যারা নির্বাসনে থেকে আন্দোলনের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের কাজও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধ মাঠে হয়, কিন্তু যুদ্ধ পরিচালনা করতে নীতি প্রণয়নও জরুরি—এ কাজেও আমরা ছিলাম। কৃতিত্ব চাই না, কৃতিত্ব দিয়ে কী হবে? কিন্তু ইতিহাস যে কারা সামনের যুদ্ধে ছিলেন আর কারা নীতিগত পরিচালনায় ছিল তা বলেনি।’’

তিনি আবু সাঈদের শহীদ হওয়া স্মরণ করে জানান, সেই ঘটনার পর তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলেন যে এই জাতির মুক্তি নিশ্চিত হবে। ‘‘যে দেশের ছাত্ররা মুক্তির জন্য বুকে গুলি নিতে ও রক্ত দিতে প্রস্তুত, সেই জাতিকে কেউ আটকাতে পারবে না,’’ মন্ত্রী বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষের অনেক জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ যখন জনতার কাতারে আসে—thati—তাই ছিল জুলাইয়ের মূল শক্তি। তিনি জনগণই জানতে পারে একাত্তরে ও চব্বিশে প্রতিটি দলের ভূমিকা কীরকম ছিল।

আলোচনা সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মহাসচিব শাহেদুল আজম উপস্থিত ছিলেন।