তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে। রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি একটি ভালো প্রস্তাব। বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখবে সরকার।’’
তিনি ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের অর্থনীতিসহ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয় ও সাব-লাইসেন্সিং প্রসঙ্গে বিস্তর ব্যাখ্যা দেন। মন্ত্রী জানান, এবার সরকার ফিফা থেকে সরাসরি ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে। পরে চারটি প্রতিষ্ঠানকে সাব-লাইসেন্সিং করে এর প্রায় পুরো অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে সরাসরি সরকারের নগদ ব্যয় মাত্র প্রায় তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং আলোচনা চালিয়ে এই ক্ষতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
স্বপন ২০২২ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তখন ফিফা থেকে ৩.২ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয় করা হলেও সেটি মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে দেশে এসেছে। সে সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব কিনে নেন এবং বেসরকারি মাধ্যমগুলোতে প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি হয়েছিল; মোট মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা তিনি অভিযোগ করে বলেন যে সেখানেই দুর্নীতি ও লুটপাটের কেন্দ্র ছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, এবার ফিফার কাছে থাকা ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারের পাওনা পরিশোধের অর্থ আমরা বেসরকারি উৎস থেকে সংগ্রহ করেছি। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির উদ্যোগে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিদেশী পাওনা পরিশোধের পরও যে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, তা সাব-লাইসেন্সিং থেকে পূরণ করা হবে। ফলশ্রুতিতে সরকারের বাস্তবিক আর্থিক ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
স্বপন বলেন, এবার সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করায় মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধার সুযোগ তৈরি হয়নি, যা জাতির জন্য সুখবর। এর ফলে সরকারের রাজস্বের ওপর চাপ পড়েনি, রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পেরেছেন।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে এখন মূল দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ এবং ফুটবল ফেডারেশনের ওপর — প্রস্তাবটির বাস্তবতা, বাজেট ও নিরাপত্তাসহ যাবতীয় দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





