সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আদালতের নির্দেশে দুদক গুলশানের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ফ্ল্যাট দখল করলো

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আদালতের নির্দেশে ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুটি ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ফ্ল্যাট দুটির তালা ভাঙে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদের ইনভেন্টরি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের حضورে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং গুলশান থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা সব সামগ্রী ও মালামালের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।”

ফ্ল্যাট দুটি গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত। এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট; মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ওই দুই ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেন। সেই নির্দেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক নির্দেশিত হলেও ফ্ল্যাটগুলো তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি।

দুদকের অনুরোধে আদালত পরবর্তীতে গত ২৯ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামুর চৌধুরীকেও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। একই সাথে ভবনটির ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকেও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা মোট ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল। দফায় দফায় নেওয়া এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্তমানে গুলশানের ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ ও মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।