বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনিলিভার

ইউনিলিভার বাংলাদেশ পরিবর্তনশীল ভোক্তা চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা বুঝতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাজার পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বাংলাদেশের এফএমসিজি বাজারের আকার প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এই বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিক্রয় ঘটে দেশের প্রায় ১৪ লাখ মুদি দোকান, পাইকার ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থার যোগসাজশে। তাই কেবল বিক্রির রেকর্ডই নয়, মাঠের প্রচলিত অভিজ্ঞতা—খুচরা বিক্রেতাদের মনোভাব, সরবরাহের জটিলতা ও গ্রাহকদের পরিবর্তিত প্রত্যাশাও বাজার বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

বাজার পরিদর্শনে রুহুল কুদ্দুস খান খুচরা দোকানগুলোতে গিয়ে কোন এলাকায় কোন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে, কোথায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোক্তারা কী চাইছেন—এসব বিষয়ে সরাসরি অন্তর্দৃষ্টি নেন। ইউনিলিভার বাংলাদেশ বলছে, এসব মাঠপর্যায়ের কথোপকথন কেবল বিক্রিও পরিমাপ করে না; স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে পণ্যের প্যাক সাইজ, ব্র্যান্ডিং ও বিতরণ কৌশল ঠিক করতেও সাহায্য করে।

কিছু এলাকায় একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিক্রি কমে গেলে বা ছোট প্যাক সাইজের ওপর চাহিদা বাড়লে কেন এমন হচ্ছে—এগুলো মাঠকর্মী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি ও আয়ভিত্তিক পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের এলাকায় ছোট প্যাকের চাহিদা বেড়েছে, আবার শহরে কিছু অংশে প্রিমিয়াম ও বিশেষায়িত পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখা যায়—এ ধরনের পার্থক্য বুঝতেও স্থানীয় তথ্য অপরিহার্য।

তথ্যসংগ্রহে ইউনিলিভার কেবল মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করছে না; প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ‘আইকিউ নেক্সাস’ প্রতিদিনের বিক্রির ডেটা বিশ্লেষণ করে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা ও বাজারের ধারা শনাক্ত করে। তবে ইউনিলিভার মনে করে, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যকে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত নেয়ার সেরা উপায়।

রুহুল কুদ্দুস খানের প্রায় তিন দশকের কর্মজীবন ধরে উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন, পরিচালনা এবং ব্যবসায়িক রূপান্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে পণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করেছে—এটিই ইউনিলিভারের মতে তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার শক্ত ভিত্তি।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি দশটি পরিবারের মধ্যে নয়টিতে প্রতিষ্ঠানটির কোনো না কোনো পণ্য নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। এই উপস্থিতি ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তার চাহিদা বুঝতে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতামত শুনতে এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজে লাগাতে চলমান উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।