শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ই-রিটার্ন চালু: জুলাই–সেপ্টেম্বরে জমা দিলে ৫% করছাড়, সর্বোচ্চ ২৫ হাজার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল শুরু করেছে। এপ্রিল-মে নয়—নতুন করবর্ষে করদাতাদের নির্ধারিত সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ই-রিটার্ন জমা দিলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় মিলবে, তবে এই সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, অনলাইন রিটার্ন দাখিলের প্ল্যাটফর্ম ২২ জুলাই থেকে চালু করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম চালু রাখার পেছনে উদ্দেশ্য—করসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা এবং সময়মতো রিটার্ন দেবার প্রবণতা বাড়ানো। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে করদাতাদের অনলাইন দাখিলের আগ্রহ বাড়ছে; ২০২৫-২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবুও কিছু ক্ষেত্রে কাগজে রিটার্ন জমার সুযোগ রাখা হয়েছে—যেমন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি (প্রয়োজনীয় সনদসহ), বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক। এছাড়া প্রযুক্তিগত কারণে যারা ই-রিটার্নে নিবন্ধন করতে পারবেন না, তারা সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে কাগজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। রিটার্ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইনে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহের সুবিধাও আছে।

প্রণোদনার শর্তে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের পর রিটার্ন জমা করলে ৫ শতাংশ করছাড়ের সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি ডিসেম্বরের পর যদি রিটার্ন দাখিল করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত কর বা জরিমানা দিতে হতে পারে।

ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যায় অফিস সময়ের মধ্যে এনবিআরের কল সেন্টার ও অনলাইন সহায়তা সেবা থেকে সহায়তা নেওয়া যাবে। এনবিআর বলেছে, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের ভোগান্তি দূর করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানানো হচ্ছে।