মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান জেন-জি ছাত্রবিক্ষোভে অংশগ্রহণ বন্ধ করাতে মোদি সরকারের নির্দেশে নতুন নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় থানাগুলো পুলিশি কাউন্সেলিং, ফোন করে সতর্কতা ও হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার মতো অনুরোধ করে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, কিছুকাল ধরে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর, আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে সিজেপি সমর্থিত ছাত্র আন্দোলনের কারণে বিক্ষোভ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক যোগাযোগভিত্তিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই এফআইআর বা আইনি নোটিশ আছে, তাদের স্থানীয় থানা থেকে ফোন করে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে অফিসিয়াল নম্বর থেকে লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলা হয়েছে, যাতে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারে যে তারা বিক্ষোভস্থলে যাচ্ছেন না। সামাজিক মাধ্যম ও স্ক্রিনশটগুলোতে এসব বার্তার নমুনা দেখা গেছে।
এর পাশাপাশি মুম্বাই ও আশপাশের এলাকায় পোষাকধারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের বাড়িতে পাঠিয়ে চলমান তদন্তের বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে জনসমাবেশে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো ও রেল স্টেশনের প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের ত্বরান্বিতির জন্য আগে আটক বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে, যাতে তল্লাশির সময় দ্রুত শনাক্ত করা যায়। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, এগুলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা; কারণ ফৌজদারি মামলা থাকলে তা পাসপোর্ট, উচ্চশিক্ষা ভর্তির সুযোগ এবং চাকরির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তরুণদের এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে এগুলো করা হচ্ছে—পুলিশের যুক্তি এটাই।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে থাকা আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ লাইভ লোকেশন বাধ্যতামূলক করা, বার্তা-চালাচালি নজরদারি করা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করা হলে তা ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা ও সংবিধানগত স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ সীমা অতিক্রম করেছে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও চোখে পড়ছে। দিল্লিতে চলমান সিজেপি-নেতৃত্বাধীন ছাত্রআন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন টানা তৃতীয় দিনে বিক্ষোভ করেছে। দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপি সমর্থকরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে; তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিট-ইউজি ২০২৬ সম্পর্কিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন הקরও পুলিশের এই পদক্ষেপগুলোর ওপর চাপা থাকা বৈধতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন উর্দ্ধতর পর্যায়ে বিবেচনার দাবি করছে অধিকারকর্মীরা। পরিস্থিতি কিভাবে গড়াবে—নিজেদের দাবিটিতে অটল থাকবে আন্দোলনকারীরা, নাকি প্রশাসন তাদের সরিয়ে রাখার চলাকে আরও তীব্র করবে—এই কৌশলগত দ্বন্দ্ব এখনই দেখাচ্ছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ছবি।





