শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ডাক দিল শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে

পুলিশি সহিংসতার শিকারদের পাশে দাঁড়াতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া একটি বার্তায় আগামীকাল শুক্রবার সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে—বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে সামনে থেকে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।

সিজেপি তাদের পোস্টে বলেছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবি উচ্চস্বরে পড়ে শোনাবে এবং আবেদন করছে যে ছাত্রসংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনকে অনুমতি, নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার জন্য পারস্পরিকভাবে সমন্বয় করতে হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তীব্র জ্বর ও শরীরের ব্যথার কারণে তিনি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘কয়েক দিন ধরে জ্বর ও প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথা সহ্য করে কাজ চালাচ্ছিলাম। আজ আমাকে যদি যন্তর মন্তরে না পান, তার জন্য ক্ষমাসুন্দরভাবে দেখবেন। শরীর ঠিক করতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম জরুরি—সন্ধ্যার মধ্যে আমি আবার আন্দোলনের মঞ্চে ফিরে আসব।’’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সিজেপির সঙ্গে আলোচনা করার জন্য চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল, তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা সরকারের তরফে সব সময় খোলা রয়েছে এবং চাইলেই আন্দোলনকারীরা জে পি নাড্ডার বাসভবন বা তাঁর কার্যালয়ে আলোচনা করার জন্য আসতে পারেন।

এদিকে, একই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলার সুযোগ পাবে না এবং দ্রুত বিচার সংক্রান্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মোদির এই ঘোষণার পর সিজেপি আবারও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি তুলেছে, এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এ প্রসঙ্গেও কঠোর বক্তব্য জানিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মোদির এই প্রতিশ্রুতিকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্টের মূল দায় থেকে তিনি মুক্ত করতে পারবেন না। রাহুল গান্ধী তিন দফা দাবি করেছেন—১) ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা, ২) সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারকে ক্ষমা চাওয়া, এবং ৩) আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।