জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদফতরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার একাদশ সম্মেলন সোমবার শুরু হয়ে গেছে। এবারের সম্মেলনে ভিয়েতনামকে সভাপতি এবং ইরানসহ মোট ৩৪টি দেশকে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে এনপিটি চুক্তির প্রতি একটি ‘‘উপহাস’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সভাপতি হওয়া ভিয়েতনামের জাতিসংঘ দূত দো হুং ভিয়েত বলেছেন, ‘‘এটি একটি জোটনিরপেক্ষ নির্বাচন—অন্যান্য সদস্যরাই ইরানকে বেছে নিয়েছে।’’
অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও বলেন, ইরানকে সহ-সভাপতি করা এনপিটির প্রতি ‘‘অপমানজনক’’ একটি সংকেত। তিনি জানান, ‘‘ইরান দীর্ঘকাল ধরে এনপিটির ওপর নিজের প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে এসেছে এবং তার কর্মসূচি সম্পর্কে প্রশ্নগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সহযোগিতা থেকে বিরত থেকেছে।’’ ইয়াও আরও বলেন, ইরানের মনোনয়ন সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বিব্রতকর।
জবাবে তেহরানের আইএইএ প্রতিনিধি রেজা নাজাফি মার্কিন অভিযোগগুলোকে ‘‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রবণতাসক্রিয়’’ বলে খারিজ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে یاد করিয়ে দিয়েছেন যে, ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা একমাত্র দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, অথচ তারা এখনই নিজেকেই সালিশি-শাসক বানিয়ে ফেলতে চাচ্ছে।
পারমাণবিক ইস্যু ইরান ও পশ্চিম্য দেশগুলোর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের—মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূলকেন্দ্রে রয়েছে। রোববারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেছিলেন, ‘‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’’
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলেছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে করতে চায় এবং এই অধিকার স্বীকার করার দাবি করে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, ইরানের সমৃদ্ধকরণের প্রকৃত লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স





