সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে — যা বিশ্বর অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তেল বাজার ও জোটের নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা WAM জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে করা বিনিয়োগকে সমন্বিত করার অংশ। ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে এবং নিজস্ব সরবরাহশৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আমিরাতের ‘দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য’ উৎপাদক হিসেবে অবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকারও জোরদার হবে বলে বলা হয়েছে।
ঘোষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের জরুরি চাহিদা মেটাতে নেওয়া হচ্ছে, বিশেষত আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, যা সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
অন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায়, অনেক বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অনুকূল বলে দেখছেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওপেককে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য সমালোচনা করেছেন; সেই প্রেক্ষিতে আমিরাতের প্রস্থান মার্কিন প্রভাবকে কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।
আরেকদিকে, আমিরাতের মতো বড় উৎপাদনকারীর জোট ত্যাগ ওপেককে দুর্বল করতে পারে। ওপেক থেকে বেরিয়ে এসে আমিরাত এখন কোটা-নির্ভরতা ছাড়াই নিজের উৎপাদন বাড়াতে পারবে, ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়—যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চেই থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়মিত বাড়ালে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মূল্যে ধীরে ধীরে চাপ বাড়বে এবং ব্যারেলপ্রতি ৭০–৯০ ডলারের মধ্যে দাম নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে গঠিত ওপেক তেল সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শুরুতে পাঁচটি দেশ — সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও ভেনিজুয়েলা — মিলিত হয়ে জোটটি গঠন করেছিল; পরে অনেক দেশ এতে যোগ দেয়। গত কয়েক বছরে কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়েডর ও অ্যাঙ্গোলা মত দেশ কিছু সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে ওপেক ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ওপেকের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১২টি, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।
অপরদিকে, ২০১৬ সালে ওপেক ও অ-ওপেক কিছু দেশ মিলিত হয়ে ‘ওপেক প্লাস’ গঠন করে — এতে রাশিয়া, কাজাখস্তান, ওমান, মেক্সিকোসহ বহু উৎপাদনকারী দেশ জড়িত হয়; এই জোট এখন বিশ্ব তেল উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
এ প্রতিবেদনটি আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত।





