লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ ও টাইরসহ কয়েকটি এলাকায় শুক্রবার ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর হাব্বুশ এলাকায় একক হামলায় নয়জন মারা গেছে এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন; আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছেন।
লেবাননের সরকার জানিয়েছে, টাইর জনপদ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনা মিলিয়ে সোমবার পর্যন্ত লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ১৩-এ পৌঁছেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন আবাদের পরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের মোট সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে — চলমান সংঘর্ষে হতাহতের ধাক্কাও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরান-সমর্থিত শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রত্যাঘাত চালায়। জবাবে তেলআবিব থেকে লেবাননের প্রধান শহর বৈরুতসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে। এসব উপদ্রবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে, বলে সরকারি ও জাতিসংঘ সূত্র জানিয়েছে।
সংকটের মধ্যে লেবাননে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্সসহ বিশ্বের তিন দিনেরও বেশি সংখ্যক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছিল; তাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে এধরনের আঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান বারবার বলেছে, যদি সমঝোতা চাইলে লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে; সেই দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষের নতুন হামলা‐প্রতিহামের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাত দ্রুত পরিধি বাড়ায় এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ তেল আবিবের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়; এরপর ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। এক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পরে আমেরিকা ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় গত বছর গোড়ায় প্রয়োজনভিত্তিক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ফলে ওই শান্তি ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।





