রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ অবরোধে সতর্ক সংকেত: বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন সংঘাতে হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের রাসায়নিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তেল ও গুরুত্বপূর্ণ চালানগুলোর প্রধান পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার আমদানি-রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি আটকে পড়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সার সরবরাহ না হলে বিশ্ববাজারে সারদর দ্রুত বাড়বে এবং তীব্র ঘাটতিও দেখা দেবে। এই ঘাটতি কৃষিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে; তাদের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ফসলের উৎপাদন কয়েক অঞ্চলে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। উৎপাদন কমলেই তা ঘরে-বাইরে কৃষিপণ্যের দামে তীব্র উঠতি চাপ সৃষ্টি করবে।

রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিনই জটিল হয়ে উঠছে। সারঝুঁটির ফলে অনেক দেশের নির্দিষ্ট বীজবপনের সময়সীমা হারানো শুরু হয়েছে — বিশেষ করে এশিয়ার বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই ফসল বোনার অনুকূল সময় শেষ হয়ে গেছে। সময়োপযোগী সার না পেলে তারা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারবে না, যা পরবর্তী ফসলের ফলনকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে।

টোরেরো উল্লেখ করেন, বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল—অবশ্যই পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে। সারের অভাবে তারা গম ও ভুট্টা কমিয়ে সয়াবিনের মতো ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, কারণ সয়াবিন মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং পরবর্তী চাষে সার প্রয়োজন কমায়।

আরও একটি জটিলতা হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব। অপরিশোধিত তেলের দর বাড়লে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল খাবার হিসাবে না রেখে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরিতে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমন পরিবর্তন খাদ্য সরবরাহকে আরও সংকীর্ণ করবে এবং খাদ্যের ওপর মূল্যচাপ বাড়াবে।

অর্থনীতিবিদ টোরেরো সতর্ক করে বলেন, ইতিমধ্যে গম ও সয়াবিনের দাম বিশ্ববাজারে বাড়তে শুরু করেছে; চলতি বছরের শেষার্ধে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে এবং আগামী বছরে কৃষিপণ্যের দাম একটি বড় লাফে উপরে যেতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য একসঙ্গে বাড়লে বিশ্বের প্রধান অংশে মূল্যস্ফীতি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হবে। সরবরাহশৃঙ্খল সরিয়ে নেওয়া, ভাণ্ডার তৈরি ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ চ্যানেল খোলা রাখার ওপর নীতিনির্ধারকদের তৎপর হবার আহ্বান করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল জাজিরা।