মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক স্থবিরতা, পদপ্রত্যাশীদের লবিং

খুলনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বড় ধরনের নেতৃত্ব শূন্যতা নিয়ে অস্থির সময় পার করছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর কমিটি না থাকার ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টির পরও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন, আর পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত।

দলীয় সূত্র বলছে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের পূর্বের কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠিত হয়েছিল—ইশতিয়াক আহমেদ (ইস্তিকে) আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাস সদস্য সচিব হিসেবে। ওই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘসূত্রি। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট গঠন করলেও একই দিনে—২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর—এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় কমিটিগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণতা দিয়ে মহানগর ও জেলা স্তরের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানালেও জাতীয় নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ে ইউনিট কমিটিগুলো কার্যকর থাকলেও উপরের কোনো ‘অভিভাবক’ না থাকায় খুলনার ছাত্রদল কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম (বকুল) নিজেই এই প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।

মহানগর ও জেলা কমিটির শীর্ষপদের জন্য যে নামগুলো আলোচনা চলছে, তাদের মধ্যে মহানগর সদর পদে উঠে এসেছে তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ। জেলার জন্য আলোচনায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

জেলার সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, ‘মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করলে প্রকৃত ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবে।’ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের রক্তসঞ্চালনের এক মাধ্যম—নতুন কর্মীরা এখান থেকেই দলে যোগ দেয়। বর্তমান সংসদের বেশিরভাগ মন্ত্রী ও এমপি ছিল ছাত্রনেতা; তাই দলকে গতিশীল রাখার জন্য দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।’

স্থানীয় নেতারা অনড়ভাবে বলছেন যে দ্রুত ও সুসংগঠিত কমিটি গঠন না হলে খুলনার ছাত্রদল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার কার্যকর উপস্থিতি ধরে রাখতে পারবে না। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অনুমোদন ও চূড়ান্ত ঘোষণা মিললে শিগগিরই নতুন অরাজনৈতিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় সংগঠনে প্রাণ ঢোকে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।