শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

দেশের সমাজে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী অস্তিত্ব রয়েছে, যারা সারাক্ষণ হতাশায় ভোগে এবং বিভিন্ন সময় সমাজকে অস্থির করে তুলতে চায়। এই ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বলেন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চান না, কারণ এর পেছনে সম্পূর্ণ রাজনীতি ক্রিয়াকলাপের বিষয় রয়েছে। আমাদের রাজনীতি এখনো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সংবাদ নয়। বারবার মানুষ নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তবে দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বলেন, এই সবের পেছনে মূল ব্যর্থতা হলো আমাদের স্বাধীনতার মূল শহীদদের সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্যবোধের ক্ষতি। ৮ মে শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র বন্ধুপ্রতিষ্ঠানের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের মূল পরিচিতি ও গর্বের বিষয় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই স্বাধীন্ত্র্য অর্জনে আমাদের প্রাধান্য ও বিশ্বাসের জায়গা হলো বাংলাদেশের মূল সৈনিকরা। নয় মাসের সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আর এই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রও ফিরে পেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের লড়াইয়েও আমাদের নতুন সরকারের প্রতি আশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু বিশেষ শক্তি দেশে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করে অর্থনীতি ও প্রশাসন ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অস্থিরতাকে একত্রে কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি এও বলেন যে কিছু চরমপন্থি বা অশান্তির পেছনে যারা আছে, তারা দেশের শান্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তবে কেউই এই ধরনের অপচেষ্টা মেনে নেবে না।

বিএনপি মহাসচিবের ভাষণে উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন এই দেশে আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুর্দশা লক্ষ্য করে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই সবকিছু ছিল তার জীবন ও কাজের অংশ। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, নাটক এমনকি ‘গীতাঞ্জলি’ দিয়ে তিনি বিশ্বকে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বিশ্বজনের কাছে একজন বিশ্বমনের কবি হিসেবে পরিচিত। এ কথা তিনি স্মরণ করে বলেন যে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও জীবন সব ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ ছিল।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্যগণ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

আলোচনা শেষে স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দিনজুড়ে পতিসর রবীন্দ্রভূমিতে নানা জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভিড় জমে হয়েছিল। হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা এ উৎসবের অংশ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে স্মরণ ও সম্মান জানায়।