শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মমতার সিনেমা নিষিদ্ধের প্রতিশোধে উচ্ছ্বাস বিবেকের

বিধানসভার নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। এই ফলের ঢেউ যেন নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীর পুরনো ক্ষতকে নতুন করে রক্তক্ষর করে দিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে এই অনুভূতি স্পষ্ট হয়েছে।

এর পেছনে অবশ্য একটা যৌক্তিক কারণও রয়েছে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শাসনের সময় পশ্চিমবঙ্গে ‘ফাইলস ট্রিলজি’ সিরিজের সিনেমা— বিশেষ করে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ও ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’— মুক্তি পেতে বেশ বাধার সম্মুখীন হয়েছিল বিবেক। তার সিনেমাগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়, মুক্তি রোধ করা হয়, এমনকি সিনেমা হলে প্রচার বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই কারণে তার মনে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এখনও সেই ক্ষত নতুন করে উঁকি মারছে, যখন তার প্রতি এই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরাজয় এসেছে।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে বিবেক লিখেছেন, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির পর আমাকে বাংলায় কার্যত নিষিদ্ধই করা হয়েছিল। সিনেমা হল থেকে ছবিটি তুলে নেওয়া হয়, এবং বলা হয় আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরপর, গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করা হয়, উপরন্তু আমার উপর হামলা চালানো হয় এবং শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়। এর পাশাপাশি আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর দায়ের করা হয়। এমনকি রাজ্যপাল থেকে পুরস্কার নেবার সুযোগও আমি হারাই।

তবুও আমি হাল ছাড়িনি, বলেছেন বিবেক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই নির্বাচনের সময় আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখে বিভিন্ন মানুষ ও স্থান পর্যন্ত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ পৌঁছে দিতে সফল হই। আমি গর্বিত যে, সমালোচনার পরেও আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি। অবশেষে আমাদের এই ঐতিহাসিক জয় এসেছে, বাংলার জনগণের জন্য অশেষ অভিনন্দন। এখন আপনি নিশ্চিন্তে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।

বিবেক এখন নতুন সিনেমার প্রিপারেশনে ব্যস্ত। তার পরবর্তী প্রজেক্টের বিষয় হলো ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ, যার নাম তিনি ঘোষণা করেছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’।