শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারত সফলভাবে পরীক্ষা করলো পরমাণু বহনক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) উড়িষ্যা উপকূলে একটা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, উত্‍পন্ন তথ্য অনুযায়ী এটি আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র হলেও এটি ‘অগ্নি-৬’ কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পরীক্ষার সাফল্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতের রকেট প্রপালশন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা ও রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করেছে। ভারতের এই সফল পরীক্ষা দেশটিকে বিশ্বশক্তির এমন এক তালিকায় স্থান দেবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির দূরত্বসীমা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি—এমন পাল্লা থাকায় পৃথিবীর অন্যতম অনেক প্রান্তে এটি আঘাত হানতে সক্ষম হবে, বলে প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে ডিআরডিওয়ের চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলেই তারা অগ্নি-৬ প্রকল্পে এগোতে প্রস্তুত। এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও গাইডেন্স সিস্টেমে বিশ্বস্ততা বাড়ায়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মন্তব্য করেছে যে অগ্নি-৬য়ের মতো সক্ষমতা ভারতের মহাশক্তি হিসেবে ওঠানামাকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশটিকে শক্তিশালী জাতিগণের শ্রেণিতে আনবে। তারা রাশিয়ার ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সারমাট ও চীনের ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ডিএফ-৪১র মতো সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করেছে।

একই সময়ে, ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (তারা) নামক একটি প্রযুক্তিরও সফল পরীক্ষা করেছে। এই প্রযুক্তি সাধারণ বা লক্ষ্যহীন যুদ্ধাস্ত্রকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করতে সাহায্য করে—ফলে কৌশলগতভাবে আরও ধাঁচানো ও দক্ষ অস্ত্র ব্যবহার সম্ভব হবে।

সামগ্রিকভাবে, এই পরীক্ষার সাফল্য ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কিছু বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এর বিস্তারিত তথ্য ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।