বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের শাসনকালে ২৮টি ব্যাংকের ক্ষতির পেছনে মূলত ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্টে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাধ্য হয়েই এসব গ্রুপকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ফলে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পাচার হওয়া অর্থ ফিরে আনার কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কর্মকাণ্ডের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো—জনতা ও অগ্রণী—সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শাস্ত্রীয় দিক ছাড়াও ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ—এবং বেসরকারি পর্যায়ের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও এতে প্রভাবিত হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু দায় স্বীকার করেই হবে না — পাচার হওয়া টাকা দ্রুত ফেরত এনে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরো বলেন, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। নতুবা দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফেরত পাওয়া কঠিন হবে।

বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ঋণদান সংক্রান্ত নীতিমালা স্পষ্টভাবে আছে—কোন ব্যক্তি কতপর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে, কতদিনের জন্য এবং কীভাবে। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জেনে-বুঝে নিয়ম ভঙ্গ করে ও ওয়েভার দিয়ে থাকে, তাহলে তারও দায় আছে এবং ব্যাংককে তার দায়িত্ব নিতেই হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বহিরাগত চাপও ছিল; কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই চাপের কারণে ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে—যেগুলো এড়ানো সম্ভব ছিল না। তিনি আরও জানান, যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো সংশোধন করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে।

রিপোর্ট প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা পুনরায় জোর দিয়েছেন—তৎক্ষণাত তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা ও দণ্ড নিশ্চিত করা না হলে দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে।