মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উত্তরপ্রদেশে রাস্তায় ঈদের নামাজে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, যোগীর কড়া নির্দেশ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতের উত্তরপ্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছেন রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই রাস্তা বন্ধ করে বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাস্তায় ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না; নামাজ কেবল আগে থেকে নির্ধারিত ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানে আদায় করতে হবে।

এই নির্দেশনা তিনি রোববার (২৪ মে) রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা বৈঠকে দেন। ওই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে সোমবার (২৫ মে) এ খবর প্রকাশ করে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কোরবানির প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা, পাশাপাশি গঙ্গা দশহরা উৎসবের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন।

যোগী আদিত্যনাথ জেলা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, জনসাধারণের সমাবেশ করে কোনো ধরনের পশু কোরবানি বা জনসাধারণের সামনে কোরবানি প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে; কোরবানি কেবল পূর্বনির্ধারিত বা অনুমোদিত স্থানে দেওয়া যাবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎসবকে অজুহাত করে নতুন নিয়মের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে।

রাজ্য সরকার প্রশাসনকে শর্তসাপেক্ষে গরু কোরবানি ব্যতীত নিষিদ্ধ পশু জবাই রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য দ্রুত ও সঠিকভাবে অপসারণের ব্যবস্থা করতে তৎপর হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। খোলা জায়গায় মাংস বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে এবং অবৈধ কসাইখানার বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া উৎসবকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসংযোগ বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল জেলা হিসেবে আলীগড়, বিজনোর ও সাহারানপুরের মতো এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল ও ফ্ল্যাগ মার্চ চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

একই বৈঠকে যোগী প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনসেবা ত্বরান্বিত করতে একটি নতুন উদ্যোগও ঘোষণা করেন। রাজ্যের প্রতিটি উন্নয়ন ব্লকে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে সাপ্তাহিক চৌপাল বা উন্মুক্ত সভার আয়োজন করা হবে। এসব চৌপালে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, এবং স্থানীয় থানায় নথিভুক্ত না হওয়া অন্য অভিযোগগুলি তাৎক্ষণিকভাবে শুনে নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা রাখা হবে। জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের চৌপালে সশরীরে উপস্থিত থেকে সমস্যার দ্রুত ও সন্তোষজনক সমাধান নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।