আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাস্তায় জমায়েত করে নামাজ পড়া এবং জনদুর্ভোগ তৈরির যে কোনো চেষ্টাকে পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি কয়েকবার জোর দিয়ে বলেছেন, রাস্তায় নামাজের জন্য কোনো ধরনের পথ বন্ধ করা যাবে না; নামাজ কেবল আগে থেকে নির্ধারিত ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ও ধর্মীয় কেন্দ্রে আদায় করতে হবে।
রোববার (২৪ মে) রাজ্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা বৈঠকে যোগী এই নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন। বৈঠকের বিস্তারিত সংবাদ সোমবার (২৫ মে) প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কোরবানির প্রস্তুতি, গঙ্গা দশহরা উৎসব ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জেলা প্রশাসনগুলোকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনসমক্ষে কোনো পশুর কোরবানি করা যাবে না; কোরবানি কেবল পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানে করা হবে। উৎসবের সময় নতুন কোনো নিয়মকে অজুহাত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তিনি।
রাজ্য সরকার শর্তসাপেক্ষে ‘গরু কোরবানি’ ব্যতীত নিষিদ্ধ পশু জবাই রুখতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে বলেছে। কোরবানির পরে পশুর বর্জ্য দ্রুত ও সঠিকভাবে অপসারণ করার নির্দেশও দেয়া হয়। খোলা জায়গায় মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে এবং সব অবৈধ কসাইখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকটি সংবেদনশীল জেলায় — আলীগড়, বিজনোর ও সাহারানপুর — সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল ও ফ্ল্যাগ মার্চ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি উৎসব উপলক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে জনসাধারণের সমস্যা দ্রুত সমাধানের অংশ হিসেবে একটি নতুন উদ্যোগও ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে রাজ্যের প্রতিটি উন্নয়ন ব্লকে প্রতি সপ্তাহে সাপ্তাহিক চৌপাল বা উন্মুক্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব চৌপালে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা এবং স্থানীয় থানায় নথিভুক্ত না থাকা অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করা হবে। জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যেক চৌপালে সশরীরে উপস্থিত থেকে সমস্যাগুলোর স্বচ্ছ ও সন্তোষজনক সমাধান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





