পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূলে ব্যাপক পাল্টা স্রোত দেখা দিয়েছে — রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভায় একে একে তৃণমূল কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছেন। ইতোমধ্যে সাতটি পৌরসভার শতাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তাও দেখা দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘এ লোকগুলোর চলে যাওয়াই উচিত। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, দেশের লোকেরা বলছে যাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব আছে তাদের ফিরিয়ে নাও—তাই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।’’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমরা পুলিশকে বলেছি, এ মানুষগুলোকে কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। দেশের রূপিতে খাবার দেব, কাপড় দেব, ওষুধ দেব — কিন্তু এরা কি আমাদের জামাই? জলদি জলদি ভাগো, না হলে সরকার যা করবে তাই করবে।’’
গত ৯ মে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে ভাঙন শুরু হয়েছিল। হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, কাঁথি ও ডায়মন্ড হারবার—এই কয়েকটি পৌরসভায় একের পর এক কাউন্সিলর, পৌরপ্রধান ও উপ-পৌরপ্রধান পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগী কিছু নেতাই শুভেন্দুর উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেছেন; তাদের অভিযোগ, আগে দলীয় চাপে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেননি।
শুভেন্দু আরও জানান, ‘‘বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর কোনো দরকার নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি রয়েছে, যাদের বাংলাদেশি প্রমাণিত হবে, তাদের হস্তান্তর করা হবে। আমাদের দেশে তাদের কয়েক মাস রাখার পর খাদ্য ও অন্যান্য খরচভার ভারতীয় জনগণ বহন করবে—এতে ভারতীয় ও রাজ্যের ক্ষতি হবে।’’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘ভারতে বৈদেশিক আইন (Forcigners Act) অনেক আগেই রয়েছে; এটা কোনো নতুন আইন নয়।’’





