যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নীরবে সঙ্গ দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। মঙ্গলবার (২৬ মে) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ওমান উপকূল সংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী একটি গ্রিক সুপারট্যাংকার—যার ভেতরে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল—নৌপথে নিরাপত্তা সহায়তা পেয়েছে। ওই জাহাজটি মার্চের শুরু থেকে উপসাগরীয় এলাকায় আটকে ছিল এবং বর্তমানে ভারতে যাওয়ার পথে রয়েছে।
তবে মার্কিন সেনা কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের এসকর্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেনি। ওয়াইএসজে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সুপারট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজসহ অন্তত এক ডজন জাহাজকে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে যে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ওয়াশিংটন এই কর্মকাণ্ডকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে যে হামলাগুলি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও মাইন পেতে থাকা নৌযানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দানুযায়ী ইরানের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়ার পর সোমবার দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন যুদ্ধবিমান দু’টি ইরানী বিপ্লবী গার্ডের স্পিডবোট ডুবিয়ে দিয়েছে; ওই নৌকাগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে চেষ্টা করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এখান দিয়ে পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস চলছে—এটি সামরিক ও বাণিজ্যিক উভয় দিক থেকে সংবেদনশীল অঞ্চল। সেন্টকম বলেছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ইরান সম্পর্কিত বন্দরের দিকে বা সেখান থেকে যাওয়া ১০৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছে।
আরেকদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে। আইআরজিসি একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও পেন্টাগন সেই দাবি খণ্ডন করেছে।
উভয়পক্ষের এ ধরনের পদক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।





