বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ প্রণালীতে নীরবে বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে গোপনভাবে নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। মঙ্গলবার (২৬ মে) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এমন তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওমান উপকূল সংলগ্ন জলপথে চলার সময় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী একটি গ্রিক সুপারট্যাংকারকে নিরাপত্তা সহায়তা করা হয়েছে। ওই জাহাজটি মার্চের শুরু থেকে উপসাগরীয় এলাকায় আটকে ছিল এবং বর্তমানে ভারতে যাওয়ার পথে রয়েছে।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ এসকর্ট কার্যক্রম পুনরায় চালু করেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সুপারট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজসহ অন্তত এক ডজন জাহাজকে সহায়তা করার পরিকল্পনা থাকতে পারে।

অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে যে হরমুজ প্রণালির কাছে যেসব হামলা করা হয়েছে সেগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, কিন্তু ওয়াশিংটন দাবি করেছে এসব হামলা ‘আত্মরক্ষামূলক’ ছিল এবং তা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও মাইন পেতে থাকা নৌযানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার সতর্কতা পেলে সোমবার দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুটি স্পিডবোট ডুবিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে; এসব নৌযান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে চেষ্টা করছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই এলাকায় উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জাগরণ ও জ্বালানি বাজারে বিপদ দেখা দিতে পারে। সেন্টকম জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ইরানি বন্দরমুখী বা সেখান থেকে বের হওয়া ১০৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।

ইরানের আইআরজিসি স্পষ্ট করে বলেছে যে যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে। তারা এমনিতেই একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যা পেন্টাগন অস্বীকার করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন নিরাপত্তা তদারকি, থামানো–চলাচল ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ঘিরেই অঞ্চলটি সতর্কতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিবৃতি এবং ভিন্ন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে পরিস্থিতি কিভাবে গড়াবে, তা বিশ্ব বাণিজ্য ও সৌরশক্তি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।