বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে হামলার কারণ: হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন নিক্ষেপ—যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন নিক্ষেপই ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক হামলার মূল কারণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নাম প্রকাশ না করা কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানান।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে ইরানের চারটি সামরিক ড্রোনকে মার্কিন নৌবাহিনী ভূপাতিত করে এবং একই সময়ে হরমুজ উপকূলের বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী বন্দর আব্বাসে একটি বিশেষ গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করে সেখানে ড্রোন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল; হামলার সময় সেখানে পঞ্চম ড্রোন পাঠানোর ব্যবস্থাও চলছিল।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল পরিমিত, নিয়ন্ত্রিত ও আত্মরক্ষামূলক—এবং সেটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ সামরিক সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বুধবার রাতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে চলমান একটি যুক্তরাষ্ট্র পতাকাবাহী ট্যাংকারকে পিছু হটাতে ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তাসনিম রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই ট্যাংকার প্রবেশের আগে আরো চারটি জাহাজ প্রণালীতে ঢুকেছিল; আইআরজিসি তাদের সতর্ক করে ফায়ার করলে সেগুলো পিছনে সরে যায়।

হরমুজ প্রণালি প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথগুলোর এক: বিশ্ব জ্বালানির প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।

প্রতিবেদনে স্মরণ করানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছিল; এরপর রেভল্যুশনারি গার্ডের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকটি বিদেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন নাবিক নিহতও হন। এছাড়া ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে মার্কিন পক্ষ ইরানী বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায় করার কবুলমতো আইনের পরামর্শ দিয়েছে; তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধীদার। তাদের যুক্তি, কোনো একক দেশের দ্বারা বৈশ্বিক জলপথে নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও জাহাজ চলাচলের নিয়মগুলোর পরিপন্থী।

সূত্র: রয়টার্স