শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিয়ে সমঝোতা, ট্রাম্পের সইয়ের অপেক্ষা

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-পরবর্তী সংঘাতে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কাতারে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর একটি কাঠামোতে (ফ্রেমওয়ার্ক) সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। তবে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত শর্তগুলোতে কয়েকটি মূল বিষয় দেখা যাচ্ছে—হারমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা, ইরানের দ্বারা মাইন অপসারণ, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র নীতি না গ্রহণের প্রতিশ্রুতি, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছাড়ার বিষয়গুলো আলোচনা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্র বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (এমওইউ) হয়েছে, যার লক্ষ্য ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে পরে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে জানিয়েছে, লিগ্যাল হিসেবে এই চুক্তি এখনো কার্যকর হয়নি কারণ ট্রাম্প তার অনুমোদন বা স্বাক্ষর দেননি।

হারমুজ প্রণালী বিষয়টি চুক্তির কেন্দ্রীয় বিতর্কের একাংশ। মার্কিন দফতর জানিয়েছে, সমঝোতা হলে প্রণালী পুনরায় খোলা হবে; কিন্তু তেহরান তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অনিচ্ছুক। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণালী ‘নতুন ব্যবস্থাপনায়’ খোলা যেতে পারে এবং এতে তেহরান ও ওমানের যৌথ ভূমিকা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, যদি প্রণালীতে নতুন টোল আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয় তাহলে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর থাকলেও উগ্র সামরিক কার্যক্রম থামেনি। আল জাজিরা জানাচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নতুন প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তেহরান বলেছে, বুশেহরের আকাশে একটি ‘প্রতিকূল ড্রোন’ ধ্বংস করা হয়েছে এবং হারমুজ প্রণালীর নিকট একাধিক জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি বাহিনী। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘসময় ধরে সার্বিক সামরিক উপস্থিতি ও নৌ নাকাবন্দি অবস্থা চালিয়ে যেতে পারবে না, যা কূটনৈতিক সমঝোতার পথকে প্রভাবিত করছে। তবুও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চিত অবস্থায় বিরাজ করছে এবং ট্রাম্পের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট নয়—তিনি একটি চুক্তি চান বলে আভাস থাকলেও শর্তগুলোতে সংকট থাকতে পারে।

জাতিসংঘ দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন হারমুজ অঞ্চলে নৌসুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া নিয়ে ভাবছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোও সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।