সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় ভাড়া বাড়ি থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার

খুলনা: সোনাডাঙ্গার কাঁচা বাজারের পাশে ভাড়া ঘর থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দারুল আমান মহল্লার ভাড়া বাড়ির তালা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ ও প্রতিবেশীরা বলছেন, নিহতরা হচ্ছেন বেবী (৫৫), মুস্তাকিম (৪) এবং শামীম (১৩)। তাদের মেয়ে ফাতেমা বেগম (মেরী) এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) থেকে তিনজনই নিখোঁজ ছিল। ঘর তালাবদ্ধ থাকায় আশঙ্কা হলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশের প্রাথমিক জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তালা ভেঙে ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় — খাটের নিচ থেকে বেবী বেগম, ট্রাঙ্ক থেকে শামীম ও ওয়্যারড্রোব থেকে মুস্তাকিমের মরদেহ পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী মেরী বেগমের দ্বিতীয় স্বামী ট্রাক ড্রাইভার রফিকুল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি’র একটি বিশেষ দল। তারা ক্রাইম সীন থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সুরতহাল তৈরি করে তিনটি মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামের ভাড়া বাড়ি থেকে এসব মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগমকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রফিকুলের সম্ভাব্য причিত সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে। রফিকুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে—তিনি খুলনার মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। পুলিশ আলমগীরকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছে।

পরিবার পরিচিতদের বরাত দিয়ে জানা যায়, চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামীর নাম মাসুম বেপারী (৪৫)। তিনি লবণচর থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের কাশেম বেপারীর ছেলে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর শামীম ও মুস্তাকিম তাদের মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। পরে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয় রফিকুল নামের এক ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে; তিনি প্রায়ই ফাতেমার মায়ের বাসায় এসে থাকতেন।

পুলিশ এই ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং সম্ভাব্য দায়ীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।