বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নম্বরপ্লেট ঢেকে ‘এআই ফাঁকি’ দেওয়ার অভিযোগে লাবলু হক গ্রেফতার

ঢাকার সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি প্রতারণা করতে নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে মোটরসাইকলে চলাচল করছিলেন লাবলু হক (৩৮)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তদন্তের পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান মঙ্গলবার (২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিষয়টি প্রথমে টেলিভিশন প্রতিবেদনের মাধ্যমে পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার প্রচারের ফলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ বলেছে, ভাইরাল ছবিতে মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল না, ফলে শনাক্তকরণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এবং আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য যানবাহনের তালিকা তৈরি করা হয়। মোটরসাইকেলের রং, মডেল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে সন্দেহভাজন গাড়িগুলো সীমিত করা হয়; শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০-৮০টি মোটরসাইকেল যাচাই করা হয়।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা ও সময়ের সঠিক তথ্য মিডিয়ার থেকেও নিশ্চিত না হওয়ায় তদন্ত শুরুতে অনেকটাই অনুমানের ভিত্তিতেই করতে হয়েছে। বিশ্লেষণের পর ধারণা করা হয় যে ভাইরাল ছবিটি রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ের বিজি প্রেসসংলগ্ন এলাকায় তোলা হয়েছিল এবং সেই এলাকা থেকে কার্যকর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে শনাক্ত হওয়া লাবলু হক পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল হক ও মা আনোয়া বেগম। পুলিশ জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য বিশ্লেষণের পর সোমবার তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে লাবলু দোষ স্বীকার করলে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ডিএমপি বলেছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের ধরণের প্রতারণা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ একজন ব্যক্তি সফলভাবে আইন ফাঁকি দিলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারে। তাই প্রতি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি জরুরি।

পুলিশি তৎপরতায়—even ঈদের ছুটির মাঝেই—তদন্তকারীরা বিভিন্ন ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই করেছেন এবং ধাপে ধাপে সম্ভাব্য তালিকা সংকুচিত করেছেন। তদন্ত এখনো চালানো হচ্ছে এবং পুলিশ অনুরোধ করেছে যে কেউ যদি অতিরিক্ত তথ্য জানতে থাকে তবে তা প্রদান করতে সহযোগিতা করবেন।