বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বুধবার নতুন বিদ্যুতের ট্যারিফ ঘোষণা, ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২.০৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ার প্রস্তাব

চলতি জুন থেকেই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনায় নতুন বিদ্যুতের দাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানাবে।

বিইআরসি মঙ্গলবার (২ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২০ ও ২১ মে অনুষ্ঠিত গণশুনানি ও পরে কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর এই ঘোষণা হবে। কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের নতুন ট্যারিফ চূড়ান্ত করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানরা পাইকারি (বাল্ক), সঞ্চালন ও খুচরা পর্যায়ে দাম পরিবর্তনের আবেদন কমিশনে জমা দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি/পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপিএলসি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)।

গণশুনানিতে এসব বিতরণ কোম্পানি প্রতিটি ইউনিটে বিভিন্ন মাত্রায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবিত হারে বিপিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, বিআরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি চেয়েছে। মোটমিলিয়ে প্রস্তাবগুলো পরিসরে ৮৫ পয়সা থেকে ২.০৫ টাকা প্রতি ইউনিট পর্যন্ত গেছে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি প্রস্তাব করেছে যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য গড় হিসেবে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ২৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানো যেতে পারে। কমিশন এই সুপারিশ, গণশুনানির মন্তব্য ও আর্থিক বিশ্লেষণ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।

নতুন ট্যারিফের সিদ্ধান্ত গ্রহন হলে তা ভোক্তা ও শিল্পখাতের বিদ্যুত খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বুধবারের ঘোষণা শেষে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তরফে বিস্তারিত নির্দেশনা ও প্রয়োগকাল সম্পর্কে তথ্য জানানো হবে।