বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খামেনির জানাজা ও দাফন: তিন দিনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি, দুই কোটি মানুষ নিয়ে প্রস্তুতি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের জন্য কর্তৃপক্ষ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি বড় শহরে শোকসভা ও জনসমাগমের আয়োজন হবে এবং এতে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসলামি রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যে দাফন করা হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি—যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনে—নিজের বাসভবনে এক হামলায় নিহত হওয়ার পর খামেনির জানাজা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। তখন সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-প্রস্তুতির কারণে অনুষ্ঠানে বিলম্ব ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) তেহরানের উপ-মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলি-জাদেহ জানান, তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে তেহরান ছাড়াও ধর্মীয় কেন্দ্র কোম ও পবিত্র নগরী মাশহাদে শোকযাত্রা ও জনসমাগমের আয়োজন থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, তেহরানে শেষকৃত্যের মূল অনুষ্ঠান অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।

কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই কোটি মানুষ উপস্থিতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা, ট্রাফিক ও জনসাধারণের সুবিধার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, জুনের মাঝামাঝি কোনো সময় খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হতে পারে; যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক বা সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি। চলমান অনুমান অনুযায়ী ২১ জুন এই অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যু তেহরানের রাস্তায় শোক, বিস্ময় এবং কিছু স্থানে উদযাপনের মতো মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনও জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী তিন দিনের কর্মসূচি দেশের শোকচিন্তা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে।