বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলালিংক পেল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার—টফিতে সরাসরি দেখতে পারবেন দর্শকরা

ফুটবলপ্রেমীদের প্রতীক্ষা শেষ—২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচারের স্বত্ব অর্জন করেছে বাংলালিংক। দেশের শীর্ষ ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা নিজেদের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’র মাধ্যমে দেশের দর্শকদের যেকোনো স্থান থেকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে প্রতিটি ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দেবে।

বুধবার (৩ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলালিংকের প্রধান করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরকে সহজলভ্য করতেই তারা এই ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করেছে।

তাইমুর রহমান বলেন, ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার ফলে দেশের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক যে কোনো সময় ও যে কোনো স্থান থেকে উচ্চমানের স্ট্রিমিং সুবিধায় খেলাগুলো উপভোগ করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বাংলালিংকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং টফির উন্নত প্রযুক্তি দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার নিশ্চিত করবে বলে প্রতিষ্ঠান আশাবাদী।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে এবার নতুন ফরম্যাটে মোট ৪৮টি দল অংশ নিবে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দর্শনীয়তা আরও বাড়াবে।

অন্যদিকে টেলিভিশনে সম্প্রচারের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্বের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫১ কোটি টাকার কাছাকাছি। কর, ভ্যাট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এই বড় খরচের কারণে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি কিংবা কোনো একক বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এখনো একা হয়ে সম্প্রচার স্বত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তবে দেশের দর্শকদের স্বার্থ বিবেচনায় টেলিভিশনে সম্প্রচারের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি। কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেল যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে সম্প্রচার স্বত্ব নেওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছে।

আলোচনা সফল হলে শিগগিরই টিভি পর্দায়ও বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ নিয়ে ইতিবাচক ঘোষণা পাওয়া যেতে পারে। এই খবর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আশা ও উত্তেজনা তৈরি করেছে—বিশ্বকাপ এখন শুধু স্টেডিয়ামে নয়, দেশের যেকোনো কক্ষে, যেকোনো পর্দায় পৌঁছে যাবে।