রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বন্ধ ও আংশিক চালু কারখানা সচল করতে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ, সুদ ৭%

বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ পাবে ৪ শতাংশে আর গ্রাহকদের কাছে চলতি মূলধন হিসেবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করা যাবে—প্রতি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত।

এ উদ্যোগটি গত ২৩ মে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ঘোষণা করা ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ধারাবাহিকতা হিসেবে এসেছে। মূল লক্ষ্য ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি আনা, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা। দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক সুদের হার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া অবস্থায় এই তহবিল শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় অর্ধেক সুদে চলতি মূলধন নিশ্চিত করবে।

কারা আবেদন করতে পারবে

নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না—তারা প্রধানভাবে এই সহায়তার জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, এবং কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা ইজারার মাধ্যমে সচল করে—তেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতার সিআইবি রেকর্ডে খেলাপি বা ইতিপূর্বে অর্থপাচার/ঋণের অপব্যবহারের কোনো দূর্নীতির রেকর্ড থাকা চলবে না।

ঋণের শর্ত ও মেয়াদ

একক কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের জন্য ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে—অর্থাৎ প্রথম ছয় মাস সুদ ও কিস্তি আদায় স্থগিত থাকতে পারে।

ঋণের ব্যবহার কেমন হবে

এ তহবিল থেকে নেওয়া ঋণ মূলত শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন ও ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ ব্যবহৃত সেবার বিল মেটানো এবং উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য ব্যবহারযোগ্য। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবেই দিতে হবে; নগদ প্রদান সম্পূর্ণ নিষেধ। এই ঋণ দিয়ে পূর্বের কোনো ঋণের পরিশোধ বা দায় সমন্বয় করা যাবে না।

নিগরানি ও বাধ্যবাধকতা

ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো weekly বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে এবং ব্যাংকের প্রতিনিধি প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সময় সরেজমিনে তদারকি করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে। গ্রাহকের সব ব্যবসায়িক লেনদেন একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চালানো বাধ্যতামূলক এবং শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হবে।

জরিমানা ও দণ্ডনিয়ম

নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে। সফলভাবে নীতিমালা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা গ্রাহক ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননাও দেওয়া হবে।

সংক্ষেপে, এই প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে সরকার বড় শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধন জোগাতে চাইছে যাতে উৎপাদন চাইতে না গিয়ে দ্রুত ফের চালু হয়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।