বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১১ দল: ১২ জুন সীমান্তজেলায় সমাবেশ, ১৫ জুন ঢাকায় বিক্ষোভ

পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধের উদ্যোগে আগামী শুক্রবার, ১২ জুন দেশে সীমান্তবর্তী সকল জেলায় এবং সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এছাড়া তারা ১৫ জুন সারাদেশে চলা খুন, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা অবনতি নিয়ে রাজধানীর শাহবাগের হাদী চত্বর থেকে বিক্ষোভ করবে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে মগবাজারে জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এগারো দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন লিয়াজো কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।

আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং সংস্কারের কোনো ইচ্ছা প্রকট নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে বাড়াবাড়ি করছে; ভিনদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী বিচার না করে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি সীমান্তে হত্যাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘‘সীমান্তে গত তিন মাসে ৫০-এর বেশি পুশ-ইনের চেষ্টা হয়েছে। গত একশো দিনে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশী নিহত হয়েছে বলে আমরা জানি। সরকার এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।’’

আজাদ আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলি জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, ‘‘কোনো আইনের বিধানেই সরাসরি গুলি চালানোর বিধান নেই; এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন।’’

তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিরোধীদল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সজাগ থাকবে এবং সরকারের কোনো ধরনের উদাসীনতা জনগণের সামনে উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি তিনি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের দাবিও তুলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘‘আমি সীমান্ত এলাকায় ঘুরে দেখেছি, মানুষ কত কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। সীমান্তে সরকারের ভূমিকা অপ্রতুল; বিজিবিকে শক্তিশালী করতে হবে।’’

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আগামী কর্মসূচিতে সর্বশক্তি দিয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।