বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইআরজিসি দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে ২১টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ২১টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (১০ জুন) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। খবরটি প্রথম প্রকাশ করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ধ্বংস হওয়া স্থাপনার মধ্যে একটি এফ-৩৫ বিমান থাকার হ্যাংগার এবং একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও ছিল।

তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সেনাবাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস হলেও তাদের ধ্বংসাবশেষ থেকে কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য সম্পদের ক্ষতি হয়নি।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তাদের ড্রোন হামলা চালানো হয় এবং বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও করা হয়েছে। একইসঙ্গে তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

সংস্থাটি বলে যে এসব অভিযান হয়েছে দক্ষিণ ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায়। তাদের দাবি, ওই হামলায় সিরিক এলাকায় এক টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বামানি এলাকায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে তাদের নৌবাহিনী মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা শুরু করে এবং বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘর্ষ এখনো চলছে—এবং হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দিতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা বা হুমকি আসে, তাহলে দায়ভার পুরোপুরি মার্কিন বাহিনীর ওপরে পড়ে।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ‘শত্রুতামূলক’ আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে, কিন্তু এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রতিবেশী বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না।’ তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করছে এবং নিরাপদ থাকতে চাইলে ‘আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে’ হবে।

এই ঘটনার উপরোক্ত বিবরণগুলোর কিছু অংশ শুধুমাত্র আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট দেশের আনুষ্ঠানিক সূত্রের দাবি—যেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নিশ্চিত বিবৃতি অনুসরণ করা হচ্ছে।