বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বর্ণে ভ্যাট বদলে ভরিপ্রতি ২,৫০০ টাকার প্রস্তাব, পরিমাণ কমবে প্রায় ৭৮%

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের পদ্ধতি বদলের দিকে যাচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরিতে নির্ধারিত অঙ্কে ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে—প্রস্তাবিত সংখ্যা ২,৫০০ টাকা।

বর্তমানে স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচায় বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধার্য করা হয়। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরির দাম প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা ধরা হলে এ দামে ৫ শতাংশ ভ্যাট হলে প্রতি ভরিতে উপরে উঠবে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে একই ভরিতে ভ্যাট হবে মাত্র ২,৫০০ টাকা, যা বর্তমান পরিমাণের তুলনায় প্রায় ৭৮.৫ শতাংশ কম।

এছাড়া উৎসে করের হারও কমানোর প্রস্তাব এসেছে। সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ৫ শতাংশ থাকা উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হতে পারে। এনবিআরের এক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেছেন যে বর্তমান নিয়মে এই খাত থেকে প্রতি বছর ১৫০ কোটি টাকারও কম ভ্যাট আদায় হয়; নির্ধারিত ভ্যাট আরোপ করলে আদায় বেড়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত ভ্যাট আদায়ের দাবি জানিয়ে এসেছে। বাজুস প্রাক-বাজেট আলোচনায় এবং ১৩ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করে যে ফিক্সড ভ্যাট আরোপ করলে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভ্যাট আদায় সম্ভব হবে। সংগঠনটি আগে ভরিপ্রতি ২,০০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল।

সূত্র জানায়, শুরুতে এনবিআরের প্রস্তাব ছিল প্রতি ভরিতে ৫,০০০ টাকা ধার্য করার, কিন্তু স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধের পরে সেটি ২,৫০০ টাকায় নামানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এনবিআরের বক্তব্য অনুযায়ী ব্যবসায়ীরাও এই বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন, ফলে ফিক্সড ভ্যাট চালু হলে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং রাজস্ব দুই পক্ষই উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পেশাদার ও সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকান রয়েছে; এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন আছে এবং নিয়মিত ভ্যাট দেয় প্রায় ১,৫০০ প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সোনা-বেচাকেনা থেকে ভ্যাট আদায় ছিল প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে এনবিআরের এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত নয়; তা সরকারি বাজেট প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই কার্যকর হবে। অনুমোদন পেলে স্বর্ণবাজারে ভ্যাটের নতুন কাঠামো ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্বে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।