বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩০ বছর পর: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত করানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হত্যার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন এবং ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত ২৪ মে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ ২০ মে এ বিষয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ১০ জুন তিনি আদালতের ওই নির্দেশ নিশ্চিত করেন।

জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল তৈরি এবং ময়নাতদন্ত করতে আদালত আবেদন করেছিলাম; আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আমরা কার্যক্রম শুরু করব।’

বরাত সূত্রে জানা গেছে, সালমান শাহকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই সময় রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং তার দাফন সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে সম্পন্ন করা হয়।

গত বছরের ২১ অক্টোবর গভীর রাতে রমনা থানায় ওই ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়; মামলা করেছেন তার মামা আলমগীর কুমকুম। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০ অক্টোবর আদালত হত্যা মামলাটি পুনঃনিরীক্ষার নির্দেশ দেন, যাতে জানা যায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি হত্যা করা হয়েছিল।

আদালতে দায়ের করা অভিযোগে সালমান শাহের প্রথম আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হককে। অন্যান্য অভিযোগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি ও খলনায়ক ডন। মোট অভিযোগপ্রাপ্তের সংখ্যা ১১ জন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশের একটি সংস্থা—পিবিআই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত প্রদান করেছিল। তবে পুনঃতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মামলার অমীমাংসিত দিকগুলো স্পষ্ট করা হবে।

আদালতের নির্দেশে এখন সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ঘটনাস্থলগত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।