অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন কারণ এটি তৈরিতে জনগণকে কেন্দ্র করে চিন্তা করা হয়েছে। একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পরিপ্রেক্ষিতে, দেড় দশকের সংগ্রামের ফল স্বরূপ জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা ছিল অত্যন্ত উচ্চ। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবারের বাজেটে।
মন্ত্রী শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘আগে বাজেট প্রণয়নে সব মানুষের জীবনযাপন, ভবিষ্যৎ ও প্রত্যাশাকে পুরোপুরি বিবেচনায় আনা হতো না। এবার আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাজেট ভাবনার কেন্দ্রে রেখে কাজ করেছি। সব শ্রেণি-পেশা ও সব ধরনের মানুষের জন্য এই বাজেটে কিছু না কিছু রেখে দেওয়া হয়েছে — আমি মনে করি এই বাজেটের আওতার বাইরে কেউ নেই।’’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে ছিল। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সবার প্রত্যাশা পূরণ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সীমাবদ্ধতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা মাথায় রেখে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সহজ কাজ ছিল না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল স্লোগান ছিল — ‘‘অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা।’’ অতীতে অর্থনীতি কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল; যারা সংগঠিত বা প্রভাবশালী নয়, তারা পরিকল্পনার বাইরে ছিল। এবারের বাজেটে সেসব মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে, তাই চিন্তা-দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গিতেই এ বাজেট আলাদা।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অভিঘাত এসেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবু সরকার এমন নীতি নিয়েছে যাতে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমানো যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো যায়—এটাই তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব বক্তব্যের মাধ্যমে বাজেটের লক্ষ্য ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে বলেন এবং অনাগামী বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।





