শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রত্যাশা অনেক; বাজেটে তা প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট আগের থেকে ভিন্ন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তবতাকেই সামনে রেখেই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেড় দশকের বেশি সংগ্রামের পর জনগণ নির্বাচিত সরকার পেয়েছে এবং তাই মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। ঐতিহ্যগতভাবে এই প্রত্যাশাগুলো সবসময় বাজেটে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি; এবার সেই চাহিদাগুলোকে বাজেট ভাবনায় স্থান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এবারের বাজেট সত্যিকার অর্থেই প্রতিটি মানুষকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। জীবনযাত্রার মান, ভবিষ্যৎ ও প্রত্যাশাগুলোকে বাজেটে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছি।’’ তিনি আরও বলেন, সর্বস্তরের মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাই তাদের মধ্যে কেউই এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকবে বলে তিনি تصور করেন না।

মন্ত্রী স্বীকার করেন যে পূর্বে দেশের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে এবং অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবু সীমাবদ্ধতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সর্বসাধারণকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি government’s মূল উদ্দেশ্য হিসাবে তুলে ধরেন ‘‘অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা’’, যেখানে অতীতের মতো কিছু ব্যক্তিত্ব বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে একটি রোডম্যাপও দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কোন কোন সময়ে কী করা হবে তা স্পষ্ট করা হয়েছে—এটি বাজেটের চিন্তা ও দর্শনকে আলাদা করে তুলেছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি ও দামের উত্থান ঘটেছে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবুও অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে মানুষের ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এটাই আমাদের বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছিল।’’

অর্থমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আশ্বাস দেন যে বাজেট বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হবে এবং বাজেট তার লক্ষ্য অর্জনে যে পথনির্দেশনা দিচ্ছে, তা বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করবে।